top of page

Mosfiqur Johan

 

Mosfiqur rahman johan is a documentary photographer born in Bangladesh in 1997. What started as a passion for street photography later turned into a career choice. In 2018, he joined BRAC University to study anthropology for a better understanding of humans and society. Since then, he started working on different socio-political and cultural issues. His recent works illustrate the various issues related to human rights.

Group 1.png

 

সুমি

আমি যখন অসুস্থ ছিলাম, তখন বাসায় ছবি তুলতে শুরু করলাম। সুমি খুব দুরন্ত এবং প্রাণোচ্ছল একটি মেয়ে। প্রায় সবসময় চঞ্চল থাকে। ছবি এর শুরুতে আমার কাছে ওর ছোট ছোট কাজ যেগুলো চোখে পড়ত, সেগুলো তুলতে থাকি। একটা সময়ে আমার উপলব্ধি হওয়া শুরু করে যে সুমি'র জীবন টা আমার বাসার এই ২২০০ স্কয়ার ফিট এর কারাগেই নিজের মত অবসরের একঘেয়ে সময় কাটায়। জীবনের আহ্লাদটুকু এই ক্ষুদ্র গন্ডিতেই খুঁজে বেড়ায়। 



তখন সুমির বাবা বললেন যে এটা সত্য এবং তাদের আসলেই টাকার দরকার চিকিৎসার জন্য, তাই আমার মা পরে তাকে টাকা পাঠাল। এরপরে সুমির বাবা বিকালে আমার মাকে ফোন দিলেন। কথা শেষ হওয়ার পরে মা সুমিকে বললেন, “সুমি, রেডি হ, তোকে গ্রামের বাড়িতে যেতে হবে”।

 

এই কথোপকথনের পরে আমি মাকে জিজ্ঞেস করি, “আম্মু কি হইছে, হঠাৎ গ্রামের বাড়ি যাবে কেন সুমি?”। মা বললেন, “সুমির ভাই তো মারা গেছে”।

 

কিন্তু সুমি জানত না ওর ভাই মারা গেছে।

 

তখন আমি খেয়াল করি সুমি খুবই এক্সাইটেড, কারণ অনেক দিন পরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে, আবার একই সাথে অনেক চিন্তিত কারণ ওর ভাই অসুস্থ। আমি ছবি তুলতে থাকি। সুমি কিছুক্ষণ পরে মার কাছে কিছু টাকা চায়, ওর ভাইকে ও কথা দিয়েছিল পরের বার গ্রামের বাড়ি গেলে ওর জন্য একটা খেলনা গাড়ি নিয়ে যাবে।

 

মা টাকা দেওয়ার পরে ও গাড়ি কিনে আনল, তার কিছু ছবিও তুলে রেখেছি আমি। গ্রামের বাড়ি যাওয়া নিয়ে কিছু সমস্যায় পড়ি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করি যেভাবেই হোক ওকে গ্রামের বাড়ি পাঠাবো। অবশেষে আমরা তাকে গ্রামের বাড়ি পাঠালাম। সারা দিন রাত আমি ঘুমাতে পারি নি। পরদিন আমার মাকে আমি সুমির খবর জিজ্ঞেস করতে বলি। কারণ ওর ভাইয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে ও অনবহিত ছিল।

 

মা সুমির বাবাকে ফোন দিল, সুমির বাবা সুমির নামে কমপ্লেন দেয় যে সুমি অনেক দুষ্টুমি করতেছে, ও কোনো কথাই শুনতেছে না। ওর ভাই যে মারা গেছে, এই রিয়ালাইজেশনই ওর মধ্যে নাই। আমার মা সুমির সাথে কথা বলতে গেলে সুমি আমার মা কে বলে, “খালাম্মা, হাসিব তো মইরা গ্যাছে”। আমার মা খুব অবাক হয় কারণ ঊনি সুমির কথার মধ্যে কোনো দুঃখের ছাপই পাননি যেটা আশা করেছিলেন।

 

কিন্তু আমার তখন মনে হল, মুক্ত হওয়ার আনন্দ সুমির ভাই মারা যাওয়ার কষ্টকে ছাপিয়ে গিয়েছে ।

Group 1.png

 

ছবি তুলতে তুলতে একটা সময়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগে; স্বাধীনতা কী? পেশাভিত্তিক সম্পর্কের বহুমাত্রিকতা নাড়া দিতে থাকে এবং সাথে নতুন উপলব্ধি জাগে- বন্দীশালাই কেবল কারাগ না। আমাদের আবাস পর্যন্ত ও কারাগারস্বরূপ হতে পারে। 



 

সুমি এই কারাগারে থেকেই কারাগারমুক্তির প্রত্যাশা করে। চেষ্টা করে সামান্য আনন্দ খোঁজার। বৃষ্টি হলে বাইরে হাত বাড়িয়ে থাকা আমাকে স্বাধীনতার গুরুত্ব নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে সে। 



 

একদিন সকালে সুমির বাবা আমার মাকে ফোন করে বলল সুমির ভাই অনেক অসুস্থ এবং তার অনেক টাকার দরকার চিকিৎসার জন্য। আমার মা তখন প্রশ্ন তুললেন এই কথার সত্যতা নিয়ে। কারণ সুমির বাবা এর আগে এমন অনেক মিথ্যা কথা বলে টাকা নিয়েছে। তখন সুমির বাবা বললেন যে এটা সত্য এবং তাদের আসলেই টাকার দরকার চিকিৎসার জন্য, তাই আমার মা পরে তাকে টাকা পাঠাল।

Group 1.png
bottom of page